মেহেরপুর জেলার ঐতিহাসিক মুজিবনগর উপজেলা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সূতিকাগার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করলেও স্বাধীন উত্তর দীর্ঘ সময়ে অত্র এলাকার উচ্চ শিক্ষার তেমন কোন প্রসার ঘটেনি। শিক্ষা বিস্তারের দিক দিয়ে মেহেরপুর একটি পশ্চাৎপদ জেলা। এ জেলার অন্যান্য উপজেলা অপেক্ষা মুজিবনগর উপজেলা মহাজনপুর ইউনিয়ন ও তৎসংলগ্ন এলাকাবাসী শিক্ষায় অনগ্রসর। উচ্চ শিক্ষা লাভের নূন্যতম সুযোগ না থাকায় শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে না। মহাজনপুর থেকে মেহেরপুর সরকারি কলেজ ও দারিয়াপুর অবস্থিত মুজিবনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের দূরত্ব যথাক্রমে ১৬ও ১৩ কি.মি.প্রায়। অত্র এলাকার গরীব শিক্ষার্থীদের পক্ষে এতদূর যেয়ে লেখাপড়া করা সম্ভব হয় না।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষানীতিতে সর্বস্তরে সমশিক্ষা বাস্তবায়ন অন্যতম উদ্দেশ্য।
তাই শিক্ষানীতিতে এলাকার গরীব ও দুঃখী মানুষের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য একটা কলেজ অবশ্যই প্রয়োজন। এতদুদ্দেশ্যে সর্বসম্মতিক্রমে একটা কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
২০০০ সালে মহাজনপুর গ্রামে মহাজনপুর মহাবিদ্যালয় নামে কলেজটি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে এম.পি.ও ভূক্তির আওতায় আসে। বর্তমানে কলেজটির বয়স প্রায় ২৩ বছর।
ভৌগলিক পটভূমি / অবস্থান : কলেজটি মেহেরপুর আটকবর মহাসড়কের পশ্চিমপাশে অবস্থিত। মহাসড়কের পূর্বপাশে মহাজনপুরের ঐতিহাসিক আম্রকানন যার আয়তন প্রায় ১৫০ বিঘা। সড়কটি কলেজের শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষক কর্মচারীদের যাতায়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিদ্যাপিঠের উত্তরে লোকালয়। দক্ষিনে বিস্তৃত কৃষি ফার্ম ও বিভিন্ন বাগান। এর পশ্চিমে ভৈরব নদী ও মহাজপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ভৈরব নদীটির বিশেষত্ব হল এর পূর্বপাশে কলেজ ও বিভিন্ন বনজ ও ফলজ বাগান যা এলাকার তথা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।
কলেজের আভ্যন্তরিন পরিবেশ : কলেজটি বাউন্ডারী প্রাচীর ও তারকাটা দ্বারা বেষ্টিত। বর্তমানে এখানে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহন করছে। কলেজের ক্লাস মনিটরিং এর জন্য সার্বক্ষণিক শিক্ষকদের সমন্বয়ে দুটি টিম আছে যারা সর্বক্ষণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও গতিবিধি পর্যবেক্ষন করে। এছাড়া বছরে প্রায় তিনবার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে পাঠ উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের লেখাপড়ার মান উন্নত হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কলেজটি জেলায় সর্বোচ্চ পাশের হারের রেকর্ড গড়েছে। এছাড়া কলেজটি উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্মারক পুরষ্কার লাভ করেছে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির সুযোগ আছে।
শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশের জন্য কলেজটি প্রতিবছর জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন করে যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটি ও সমাজ সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।